উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের ব্যাটন এবার নিশীথের হাতে, কোচবিহারের দাপট বজায় রেখেই শুরু নতুন অধ্যায়
উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবারও কোচবিহার জেলাকেই বেছে নিল নতুন সরকার। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও উদয়ন গুহর উত্তরসূরি হিসেবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী হলেন কোচবিহারের ‘ভূমিপুত্র’ নিশীথ প্রামাণিক। একইসঙ্গে তাঁর কাঁধে ন্যস্ত হয়েছে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের গুরুদায়িত্ব। সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পাহাড় থেকে সমতলের সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০টিতেই জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল, ফলে সাধারণ মানুষের এই বিপুল জনসমর্থন ও প্রত্যাশার চাপ যে তাঁর ওপর রয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী।
উন্নয়নের ভরকেন্দ্র যখন কোচবিহার
বাম আমলের বঞ্চনা ঘুচাতে ১৫ বছর আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর গঠন করা হয়েছিল। শিলিগুড়ির গৌতম দেবের পর গত এক দশকে এই দপ্তরের রাশ থেকেছে কোচবিহারের হেভিওয়েট নেতাদের হাতেই। সেই ধারা বজায় রেখে এবারও ভেটাগুড়ির বাসিন্দা নিশীথ প্রামাণিককেই বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার নিরিখে উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে নিশীথ অনেকটাই এগিয়ে। অতীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা এবার রাজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পরিকাঠামো ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বড় বদলের প্রত্যাশা
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাজে অতীতে বারবার রাজনীতির ছোঁয়া ও নিম্নমানের নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। নিশীথ প্রামাণিক দায়িত্ব নিয়েই জানিয়েছেন, কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত আটটি জেলায় থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করাই তাঁর অগ্রাধিকার। বিশেষ করে চা বাগান, বনাঞ্চল এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাটের মানোন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। এছাড়া, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে কোচবিহারে ঝুলে থাকা স্পোর্টস অ্যাকাডেমি প্রকল্পটি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে দ্রুত বাস্তবায়িত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। উত্তরকন্যায় নতুন মন্ত্রীর পদার্পণের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে উত্তরবঙ্গের মানুষ।