আসামে ফের ‘হিমন্ত রাজ’! ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে ঝোড়ো গতিতে এগোচ্ছে বিজেপি, ধূলিসাৎ বিরোধী জোট
আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার শুরু থেকেই উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে দাপট দেখাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিশেষ করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র জালুকবাড়িতে তাঁর নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রয়েছে। ১২৬ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট, যা রাজ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো গেরুয়া শাসনের পথ প্রশস্ত করছে।
জালুকবাড়িতে হিমন্তের একাধিপত্য
রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল জালুকবাড়ি কেন্দ্রের দিকে, যেখানে পঞ্চমবারের মতো লড়ছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রথম কয়েক ঘণ্টার গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের তরুণ প্রার্থী বিদিশা নিয়োগের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নিজের শক্ত ঘাঁটিতে হিমন্ত অপ্রতিরোধ্য। এক দশকের বেশি সময় ধরে এই কেন্দ্রটি তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের সাক্ষী। ২০১৫ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকেই তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং উন্নয়নের খতিয়ানকে অস্ত্র করে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের পথে।
বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে যাত্রা
প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, আসামের ১২৬টি আসনের মধ্যে ৯২টিতেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি জোট। এই ঝোড়ো প্রবণতা বজায় থাকলে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সুশৃঙ্খল নির্বাচনী প্রচারই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিপরীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট কিছু পকেটে লড়াই দিলেও বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি
এই ফলাফলের ধারা অব্যাহত থাকলে আসামের রাজনীতিতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অবস্থান আরও সুসংহত হবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে বিজেপির প্রভাব বিস্তারে হিমন্তের রণকৌশল যে কাজ করছে, এই জয় তারই প্রতিফলন। রাজ্যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে সরকারের অবস্থান আগামী দিনে আরও কঠোর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত চূড়ান্ত ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।