আইআইএম হস্টেলে পাঁচ বছর ধরে বন্দি ও নির্যাতন, মণিপুরের যুবতীর বয়ানে শিউরে উঠছে বেঙ্গালুরু!
বেঙ্গালুরু আইআইএম (IIM) চত্বরের ভেতরেই দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এক মণিপুরি যুবতীকে ক্রীতদাসের মতো আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। কাজের খোঁজে মণিপুর থেকে বেঙ্গালুরুতে আসা ২৩ বছর বয়সী ওই যুবতীকে অমর ও অংশু নামে এক দম্পতি তাঁদের সন্তানকে দেখাশোনার জন্য নিয়োগ করেছিলেন। অভিযোগ, হস্টেল আবাসের চার দেওয়ালের ভেতরেই গত কয়েক বছর ধরে তাঁর ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে।
অভুক্ত রাখা ও অমানবিক প্রহারের অভিযোগ
নির্যাতিতা যুবতীর দাবি, কাজে সামান্য ভুলত্রুটি হলেই তাঁকে খাবার দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হত। দিনের পর দিন অভুক্ত রাখার পাশাপাশি তাঁর ওপর চলত নৃশংস মারধর। দীর্ঘ পাঁচ বছর বাইরের জগতের সঙ্গে প্রায় কোনো যোগাযোগ ছাড়াই তাঁকে কার্যত বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি প্রতিবেশীদের নজরে আসেন। তাঁদেরই সহায়তায় শেষ পর্যন্ত একটি কুকি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন ওই যুবতী।
তৎপর ছাত্র সংগঠন ও পুলিশের ভূমিকা
ছাত্র সংগঠনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওই দম্পতির বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত অমর ও অংশু পলাতক। কোনো প্রভাবশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কীভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই ধরনের মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলল, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাটি মহানগরে কাজ করতে আসা পরিযায়ী শ্রমিক ও গৃহকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। নির্যাতিতা যুবতী বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং দ্রুত তাঁদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।