অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন লাহেক আলি! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ
বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা হত্যা ও পরবর্তী পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের মামলায় অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন তরুণ সিপিএম (CPI-M) নেতা লাহেক আলি। টানা ৫০ দিন জেলবন্দি থাকার পর বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।
জানা গেছে, লাহেকের মা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নরেন্দ্রপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভেন্টিলেশন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন। মায়ের এই সংকটজনক শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান তাঁর আইনজীবীরা। মানবিক দিক বিবেচনা করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাহেক আলির অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জামিনে থাকাকালীন তিনি এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না এবং বারুইপুর থানা যখনই তলব করবে, তদন্তের স্বার্থে হাজিরা দিতে বাধ্য থাকবেন।
পটভূমি ও অভিযোগ: উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকার নৃশংস হত্যা ও দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পথঅবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মোট ৪টি সুয়োমোটো মামলা দায়ের করে বারুইপুর থানার পুলিশ। পুলিশ দাবি করে, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী লাহেক আলি সেখানে উপস্থিত থেকে জনতাকে উসকানি দিয়েছিলেন। এর পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
বাম নেতৃত্বের তীব্র প্রতিক্রিয়া: শুরু থেকেই সিপিএম এই গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে আসছিল। বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী জানান, এলাকায় টোটোচালক ইন্দ্রজিৎ খুনের পর পরিস্থিতি সামাল দিতেই লাহেক সেখানে গিয়েছিলেন। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সত্যিটা সামনে আসবে।
বুধবার লাহেকের জামিনের খবর মেলার পর বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর বলেন, “যারা লাহেকদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে তদন্তের মোড় ঘোরাতে এবং মূল দোষীদের বাঁচাতে চেয়েছিল, তাদের সেই আশা পূরণ হলো না। বারুইপুর কাণ্ডের বাকি আসল অপরাধীরা এখনও অধরা। পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ একজন মারা গেলেও বাকিরা কবে গ্রেফতার হবে, তা আমরা জানতে চাই এবং এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
মায়ের চরম সংকটের মুহূর্তে লাহেকের এই আইনি মুক্তি সিপিএম শিবিরের জন্য সাময়িক স্বস্তির হলেও, মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায় সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।