অষ্টম বেতন কমিশনে ন্যূনতম বেতন ৫২,৬০০ টাকা করার জোর দাবি
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে অষ্টম বেতন কমিশনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে। এই আবহে ভারতীয় রেলের প্রযুক্তি কর্মীদের সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার অ্যাসোসিয়েশন’ (IRTSA) কমিশনের কাছে একগুচ্ছ দাবি সম্বলিত একটি বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সংগঠনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো, রেল কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বা বেসিক পে বাড়িয়ে ৫২,৬০০ টাকা করা। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কর্মীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বেতন কাঠামোয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের নতুন বিন্যাস
সংগঠনটি দাবি করেছে যে, সব স্তরের কর্মীদের জন্য একই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। দায়িত্ব এবং অভিজ্ঞতার ভিন্নতা অনুযায়ী পাঁচটি পৃথক ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, লেভেল ১ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মীদের জন্য ২.৯২ এবং উচ্চতর লেভেলগুলোতে (লেভেল ১৭-১৮) ৪.৩৮ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চাওয়া হয়েছে। এর ফলে বেতন কাঠামোয় একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য তৈরি হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভাতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত সংস্কারের প্রস্তাব
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও পদোন্নতি নিয়েও একাধিক সংস্কারের দাবি উঠেছে। সংগঠনটি বর্তমান কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) সংস্কার করে তাতে ইন্টারনেট খরচ ও স্বাস্থ্য বিমার মতো আধুনিক ব্যয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। একইসঙ্গে ডিএ-কে আয়করের আওতামুক্ত রাখা এবং ৫০ শতাংশ ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট এবং পদোন্নতির সময় অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে এই মেমোর্যান্ডামে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই প্রস্তাবগুলো গৃহীত হলে রেলকর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যস্তরের কর্মীরা এর ফলে সরাসরি লাভবান হবেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং অষ্টম বেতন কমিশন এই বিপুল আর্থিক দাবির বিপরীতে কতটা সংস্থান করতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো। আপাতত লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।