অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ, অরূপের ইস্তফা নিয়ে তীব্র বিতর্ক
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার আরও প্রকাশ্য রূপ নিল। এবার সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক পদত্যাগের ঘটনার পর এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে, যেখানে পুরো পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছেন প্রবীণ এই সাংসদ।
অরূপের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও অভিষেকের দিকে আঙুল
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট অভিযোগ, অরূপ চক্রবর্তীকে দলের বড় দায়িত্বে নিয়ে আসার পিছনে মূল ভূমিকা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, অরূপকে নেতা তৈরি করেছিলেন অভিষেকই, তাই বর্তমান পরিস্থিতির দায়ও তাঁর ওপরেই বর্তায়। অরূপ চক্রবর্তীর সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে শ্রীরামপুরের সাংসদ মন্তব্য করেন, সারা রাজ্যে দলের হয়ে বক্তৃতা করে বেড়ানোর মতো কী যোগ্যতা ছিল অরূপের? আজ পরিস্থিতি বদলানোর পর কেন তিনি ময়দান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাদের দলে বড় নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, আজ তারাই তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন।
দলের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা বা বিধানসভা স্তরের সাফল্যের পর যখন দলের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা, তখন এই ধরণের শীর্ষ স্তরের বাদানুবাদ দলের নিচের তলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। অরূপ চক্রবর্তীর ইস্তফাকে কেন্দ্র করে প্রবীণ ও নবীন শিবিরের এই সংঘাত আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক রদবদলের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীরামপুরের সাংসদের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।