অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী, ১ জুন থেকেই শুরু হচ্ছে অর্থ প্রদান
রাজ্যের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের বিশেষ নজর ছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের দিকে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রাক্তন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের চেয়েও বেশি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্প চালুর সবুজ সংকেত দিয়েছেন। একইসঙ্গে এই প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন এবং কারা তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
কারা পাবেন না এই আর্থিক সুবিধা
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে যোগ্যতার কঠোর কোনো মাপকাঠি না থাকলেও, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাইছে বর্তমান প্রশাসন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূলত তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, রাজ্য পুলিশের খাতায় যাদের নাম এসআইআর-ভুক্ত (সন্দেহভাজন অপরাধী বা পলাতক) হিসেবে রয়েছে, তারা এই সুবিধা পাবেন না। দ্বিতীয়ত, তালিকায় থাকা কোনো গ্রাহকের মৃত্যু হলে সেই নামগুলো নিয়ম অনুযায়ী বাদ দেওয়া হবে। এছাড়া, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে খতিয়ে দেখা হবে নাগরিকত্ব। কেউ যদি ভারতের নাগরিক না হয়েও তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন, তবে তারা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না।
জুন থেকেই অ্যাকাউন্টে যাবে তিন হাজার টাকা
রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১ জুন থেকে যোগ্য সব মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অর্থ পৌঁছে যাবে। মূলত প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ভুয়া গ্রাহকদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়াই এই নতুন কড়াকড়ির প্রধান কারণ। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, তালিকায় এই স্বচ্ছতা আনার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং প্রকৃত দুস্থ মহিলারা ৩ হাজার টাকার এই বর্ধিত আর্থিক সুবিধা লাভ করবেন। এর ফলে গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।