মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসংকট: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও প্লাস্টিক পণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা – বর্তমান নিউজ

আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে পলিমার ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ভারতে আইওসিএল (IOCL) গত ২৫ মার্চ থেকে প্লাস্টিকের দাম বৃদ্ধি করায় নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী ও প্যাকেটজাত খাবারের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শিল্প সূত্রে খবর, হোমোপলিমার পলিপ্রোপিলিন ও পলিথিনের দাম প্রতি টনে প্রায় ৪,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বোতলজাত পানীয়, প্লাস্টিকের কন্টেইনার, বালতি এবং মগের মতো দৈনন্দিন পণ্যের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কো ম্পা নিগুলো আপাতত খুচরা দাম না বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয়ের বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বর্তাবে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
প্লাস্টিক ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব থেকে বাদ যাচ্ছে না জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাও। সিরিঞ্জ, আইভি বোতল, ডায়াগনস্টিক কিট এবং ওষুধের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পলিমারের দাম বৃদ্ধিতে ওষুধের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কাঁচামালের সরবরাহ কমে গ্লাভস ও অন্যান্য মেডিকেল ডিভাইসের দাম প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ বাড়তে পারে। এপ্রিল মাসেই এই দাম সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতে বড়সড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।