ভোটের কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি কি পুলিশ নিতে পারে? জানুন আয়োগের আসল নিয়ম – বর্তমান নিউজ

আগামী ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত গাড়ি রিক্যুইজিশন বা অধিগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের কাজে প্রথমেই সরকারি ও বাণিজ্যিক যানবাহন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। যদি সেই সংখ্যা পর্যাপ্ত না হয়, তবেই বিশেষ প্রয়োজনে প্রশাসন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট আইনি প্রটোকল মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
আইনজীবীদের মতে, রাস্তাঘাটে হুটহাট গাড়ি থামিয়ে রিক্যুইজিশন স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া বা জোরপূর্বক গাড়ি নিয়ে নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়। নিয়ম অনুযায়ী, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের ঠিকানায় যথাযথভাবে পূরণ করা লিখিত নোটিশ পাঠাতে হয়। যদি মালিক সেই নোটিশের বিরুদ্ধে কোনো যৌক্তিক আপত্তি জানান বা আদালতের দ্বারস্থ হন, তবে জোর করে সেই গাড়ি নেওয়া যাবে না। এমনকি গাড়ি ব্যবহারের জন্য মালিককে নির্দিষ্ট হারে ভাড়াও প্রদান করতে হয়।
কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাস্তায় গাড়ি আটকানো ‘হাইওয়েম্যান অ্যাক্টিভিটি’ বা ছিনতাইয়ের শামিল। প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের মতে, গাড়ি রিক্যুইজিশন করার ক্ষমতা রাজ্য সরকার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের দিলেও, পুলিশ সরাসরি রাস্তায় গাড়ি ধরার আইনি এক্তিয়ার রাখে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতেই নোটিশ ছাড়া বা মালিকের সম্মতি ব্যতিরেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হস্তগত করা যায় না। তাই সাধারণ নাগরিকদের সচেতন থাকাই এই আইনি জটিলতা এড়ানোর প্রধান পথ।