সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার: নেপালের রাজনীতিতে তোলপাড়, কাঠমাণ্ডু আদালতে পেশ – বর্তমান নিউজ

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করে কাঠমাণ্ডু আদালতে পেশ করা হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই নাটকীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত নভেম্বরে ‘জেন-জি’ আন্দোলন দমনে অবহেলা ও হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষ মদতের অভিযোগে তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ওলির দল এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দাবি করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওলি সরকার সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ না দিলেও সহিংসতা বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ৭৭ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। আইনি ভাষায় একে ‘কাল্পেবল হোমিসাইড’ বা পরোক্ষ হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির আমলেই এই তদন্ত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল।
এই ঘটনা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে আইনি ব্যবস্থার দিক থেকে দুই দেশের পরিস্থিতির ভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা ও সরাসরি মদতের দায়ে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও নেপালের আইনে ওলি ও তাঁর সহযোগীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে, সাংবিধানিক কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা এবং সহিংসতা দমনে নিষ্ক্রিয়তাই ওলি সরকারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা এখন নেপালের বিচারবিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।