নির্বাচন কমিশনের রদবদলে ক্ষুব্ধ ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা: প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক – বর্তমান নিউজ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) ক্যাডারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তাঁদের পদমর্যাদার তুলনায় নিচু বা কম গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশ কমিশনারসহ প্রায় ৬০-৭০ জন শীর্ষ আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের জেলা যুব আধিকারিকের মতো অপেক্ষাকৃত নিম্নপদে পাঠানো। ডব্লিউবিসিএস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আশরাফ আলিকে মালদহে এমন এক পদে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাঁকে জুনিয়র আধিকারিকের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে। একইভাবে হরিণঘাটার অতিরিক্ত জেলাশাসক মৈত্রেয়ী চক্রবর্তীকেও জেলা যুব আধিকারিক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই ধরণের পদোন্নতি বিরোধী পদায়ন নিয়ে আমলাতন্ত্রের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের জেরে ভবানীপুর ও রাসবিহারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভবানীপুরে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিল শাসকদল, যার ফলে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিজ্ঞ আধিকারিকদের মতে, কমিশনের এই নির্দেশ এখন মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, তবে ভোটের পর এই রদবদল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করতে পারে।