সৌজন্যের রাজনীতি: ১০টি তেলবাহী জাহাজ পাঠাল ইরান, মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের প্রশংসা ট্রাম্পের – বর্তমান নিউজ
.jpg.webp?ssl=1)
পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনার আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০টি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ট্রাম্প জানান, প্রাথমিকভাবে আটটি জাহাজ পাঠানোর কথা থাকলেও তেহরান সৌজন্যবশত আরও দুটি জাহাজ যুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান গোপন কূটনৈতিক আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল এবং সঠিক ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জাহাজগুলোতে পাকিস্তানের পতাকা থাকায় এই প্রক্রিয়ায় ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।
তবে কূটনৈতিক এই সৌজন্যের সমান্তরালে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতভেদ প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের মতে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত ‘একতরফা’ এবং এতে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই প্রস্তাবটি ইরানের আত্মরক্ষার অধিকারকে উপেক্ষা করে কিছু অস্পষ্ট শর্তে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে তেলের জাহাজ পাঠিয়ে সদিচ্ছা দেখালেও নীতিগত অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচলের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে ট্রাম্প একে সদিচ্ছার প্রতিফলন বললেও, অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কোনো একতরফা সমাধান তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সংকট নিরসনে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণকে নতুন এক অনিশ্চয়তা ও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, যেখানে সৌজন্য ও সংঘাত একইসঙ্গে অবস্থান করছে।