রানি রাসমণির স্মৃতিধন্য বারাকপুর অন্নপূর্ণা মন্দিরে ১৫১ বছরের ঐতিহ্যে মাতোয়ারা লক্ষাধিক ভক্ত – বর্তমান নিউজ

অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষ্যে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল ও কল্যাণীজুড়ে উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। ১৮৭৫ সালে রানি রাসমণির কন্যা জগদম্বা দেবী প্রতিষ্ঠিত ব্যারাকপুর অন্নপূর্ণা মন্দিরের পূজা এ বছর ১৫১ বছরে পদার্পণ করল। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতিবিজড়িত এই মন্দিরে বৃহস্পতিবার অষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজা ও ৫১ কেজি গোবিন্দভোগ চালের অন্নকুট উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মাছ ও নানা ব্যঞ্জনে দেবীর রাজকীয় ভোগের পর লক্ষাধিক ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পুণ্যার্থীরা গঙ্গার ঘাটে দণ্ডি কেটে ও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পূজা নিবেদন করেন। ভিড় সামলাতে ব্যারাকপুর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।
অন্যদিকে, কল্যাণীর এ-১১ খেলার মাঠে সম্প্রীতি সংগঠনের অন্নপূর্ণা পূজা ১৬ বছরে পা দিল। সাবেকি প্রতিমা এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা দেখতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবের মেজাজে রাজনৈতিক উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়; টিটাগড় থেকে কাঁচরাপাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন মণ্ডপে শাসক ও বিরোধী দলের প্রার্থীদের জনসংযোগ করতে দেখা যায়। স্থানীয় ক্লাব ও সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে কল্যাণীতেও ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিষ্ঠার সাথে দেবীর আরাধনা সম্পন্ন হয়েছে। মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছেন আপামর জনতা।
একই সাথে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে রামনবমীর উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কাঁচরাপাড়ার ডাকাত কালীবাড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ পূজা ও বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শামিল হয়েছিলেন। শুক্রবারও রামনবমী উপলক্ষ্যে একাধিক বৃহৎ মিছিলের কর্মসূচি থাকায় ভাটপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। শিল্পাঞ্চলের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী।