মতাদর্শগত দ্বন্দ্বে কোণঠাসা প্রতীক-উর, সিপিএমের অন্দরে ফের বিদ্রোহের সুর

সিপিএমের অন্দরে ভিন্ন মত পোষণ করলেই কি কোণঠাসা হতে হয়? তরুণ নেতা প্রতীক-উর রহমানের সাম্প্রতিক ক্ষোভ সৈফুদ্দিন চৌধুরী বা সমীর পুততুন্ডদের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা বা ভিন্ন যুক্তি খাড়া করলেই তরুণ তুর্কিদের গুরুত্বহীন করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতীক-উরের নিশানায় সরাসরি বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব, যা দলের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইতিহাস বলছে, অতীতেও নৃপেন চক্রবর্তী বা অনুরাধা পুততুন্ডদের মতো নেতারা নতুন চিন্তাধারা বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। অথচ মজার বিষয় হলো, যে কংগ্রেস জোটের প্রস্তাব দিয়ে সৈফুদ্দিনরা ব্রাত্য হয়েছিলেন, কালক্রমে সেই পথেই হাঁটছে সিপিএম। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতীক-উরের মতো সম্পদদের সঠিক ব্যবহার না করলে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
দলের অন্দরে ‘গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা’ থাকলেও সমালোচকদের ‘ঝাঁকের কই’ না হওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ক্ষমতাচ্যুত সিপিএমের এই কঠিন সময়ে যোগ্য নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে কোণঠাসা করার নীতি আদতে দলেরই ক্ষতি করছে। প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক শতাব্দীতে এসেও কি সিপিএম তার গোঁড়া মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না?