ছেলেধরা গুজবে মা-মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা: ৯ বছর পর দোষী সাব্যস্ত ২৫ জন

২০১৭ সালে হুগলির বলাগড়ে ছেলেধরা গুজবে এক অধ্যাপকের স্ত্রী ও মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় দিল চুঁচুড়া আদালত। দীর্ঘ ৯ বছর পর বৃহস্পতিবার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক পীযূষকান্তি রায় এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ২৫ জন অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আসানপুর গ্রামে পরিচারিকার খোঁজে যাওয়া রঞ্জুবালা ঘোষ ও তাঁর মেয়ের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল উন্মত্ত জনতা।
উদ্ধার করতে গিয়ে সে সময় গ্রামবাসীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিল পুলিশও। তিরবিদ্ধ হওয়াসহ মোট ১১ জন পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ২০১৭ সালের জুনেই চার্জশিট জমা দেয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় গ্রামবাসী, চিকিৎসক ও আক্রান্তসহ মোট ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
সরকারি আইনজীবীর মতে, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়। ওই সময় রাজ্যজুড়ে ছেলেধরা আতঙ্ক ও গণপিটুনির যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই রায় তার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। শুক্রবার এই মামলার সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে আদালতের।