বিদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সিওল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অসাংবিধানিক উপায়ে সামরিক আইন জারির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় আঘাত করার অপরাধে আদালত এই নজিরবিহীন রায় ঘোষণা করে। প্রসিকিউশন পক্ষ তাঁর মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানালেও শেষ পর্যন্ত যাবজ্জীবনের সাজা বহাল থাকে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪-এ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে আকস্মিকভাবে জরুরি সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। তবে জাতীয় পরিষদে তীব্র বিরোধিতা ও দেশজুড়ে গণবিক্ষোভের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে তিনি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে আইনসভা কর্তৃক ইমপিচমেন্ট এবং সাংবিধানিক আদালতের সম্মতিতে তাঁকে পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারিত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর জুলাই থেকে কারাবন্দি প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সামরিক আইন ঘোষণাপত্র জালিয়াতি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন এড়িয়ে যাওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। এর আগে পৃথক এক মামলায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার আইনি ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের এই সাজা এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।