পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে তেহরান ও ওয়াশিংটন ‘মূল নীতিগুলো’ নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই পরোক্ষ আলোচনায় উভয় পক্ষই অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, একটি ন্যায্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চললেও এখনো অনেক কাজ বাকি। অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিরসনে ইরান বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেবে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরীসহ সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কড়া সমালোচনা করে তাদের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ফলে আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির পাশাপাশি যুদ্ধের আবহও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান মূলত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখা এবং মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোকেও আলোচনার আওতায় আনতে আগ্রহী। ওমানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *