গান-আড্ডা-খাবারে জমজমাট ‘দ্য বিরিয়ানি কুকঅফ’, প্রেমদিবসে ভরপেট ভালোবাসায় ভাসল শহর

একে প্রেমদিবস তার উপর দেদার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। ‘বর্তমান’ আর ‘ফরচুন বাসমতী রাইস’ এই দুই বিষয়কে মিলিয়ে দিল শনিবার।
সিংহভাগ বাঙালি বলে, জীবনের প্রথম প্রেম হল খাওয়া দাওয়া। সেই সিংহভাগের সবাই বলেন, খাবারের মধ্যে প্রথম প্রেম কিন্তু বিরিয়ানি। ভ্যালেন্টাইন’স ডে’তে নিকো পার্কের ওয়েস্টসাইড প্যাভিলিয়নে ‘বর্তমান’ আর ‘ফরচুন বাসমতী রাইস’ আয়োজন করেছিল ‘দ্য বিরিয়ানি কুকঅফ’ অনুষ্ঠানের। সেখানে শুধু যে খাওয়া দাওয়া ছিল তা নয়, সঙ্গে ছিল গান-বাজনা, আড্ডার জমকালো অনুষ্ঠানও। আর বাঙালির রিল লাইফের প্রেম ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকেও দেখার সুযোগ ছিল। এমন দিনে তাঁর রূপ আলোর মতো ঝলমল করবে, এটাই স্বাভাবিক। হলও তাই। আট থেকে আশি খুশিতে ভাসল তাঁকে সামনে থেকে দেখে।
কুকঅফে ১০ বাছাই প্রতিযোগী সকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের বিরিয়ানি রান্না শুরু করেছিলেন। রান্না চলছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সুবাস ছড়াতেও শুরু করল। তখন পাশের সভাগৃহে গান ধরলেন ঋষি পান্ডা। ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র গানে বাঙালি ডুব দিল নস্টালজিয়ায়। তার আগে কৃষ্ণনগরের নৃত্যাঙ্কুরের নৃত্যানুষ্ঠানে মুগ্ধ দর্শকরা। গিটারের ছ’তারের ঝনঝনানির মধ্যে লাল জামা আর সানগ্লাস চোখে হাজির আবির চট্টোপাধ্যায়। তিনি আসা মানেই প্রেমদিবসের দুপুর আরও একটু স্পেশাল। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা-গায়ক সাহেব চট্টোপাধ্যায়ও। এসবের মাঝে সুবাস তীব্র হল বিরিয়ানির। সে রান্নার স্বাদ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করলেন শেফ অতনু, ইন্দ্রজিত্ লাহিড়ী (ফুডকা), শেফ সুব্রত দেবনাথ, অভিনেত্রী রুকমা রায়, আমিনিয়ার কর্ণধার মহম্মদ আজাহার ও সাহেব চট্টোপাধ্যায়। ঋষির গানের মাঝেই ঘোষণা, ‘মটন বিরিয়ানি খাওয়ার সময় উপস্থিত।’ বিরিয়ানি-কাবাব-ফিরনি নিয়ে হাজির ‘অউধ ১৫৯০’। এর মাঝেই চলল ক্যুইজ প্রতিযোগিতা। প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলেই দেদার উপহারের হাতছানি। মঞ্চে এলেন অভিনেত্রী ঋতূপর্ণা সেনগুপ্ত। বললেন, ‘সম্পর্কের উদযাপনটাই ভ্যালেন্টাইন’স ডে।’ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন স্টার জলসার আগামী ধারাবাহিক ‘শুধু তোমারই জন্য’র কলাকুশলীরা। শেষে এলেন অভিনেতা রাজা ও মধুবনী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করলেন আর জে অরবিন্দ।
উদযাপন পর্ব চলতে থাকল। এবার উপস্থিত হলেন আদানি গ্রুপের এগজিকিউটিভ ডেপুটি চেয়ারম্যান অংশু মল্লিক, রাকেশ মশালার কর্ণধার সঞ্জয় মিশ্র, রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। খাওয়া-দাওয়ার পর এক গ্লাস ‘গ্যাস ও ফাস্ট’ মিলছিল। আর ছিল ‘কফি এক্সও’র কফি। উদাযাপন এত তাড়াতাড়ি শেষ হওয়ার ছিল না। উপস্থিত আছেন লোপামুদ্রা মিত্র। তিনি একের পর এক গানে মাতোয়ারা করে দিলেন শ্রোতাদের। এবার এল বহু প্রতীক্ষিত সেই সময়।
বিরিয়ানি রান্না করে সেরা হলেন কারা? প্রথম হলেন দূর্গাপুরের শিল্পী দাস। বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরে পড়ছেন। গৃহবধুও। তিনি রেঁধেছিলেন বাদশাহি ভেটকি বিরিয়ানি পাতুরি। পুরস্কার পেলেন ৫০ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা জিতে দ্বিতীয় হলেন হাওড়ার সুতপা দাস। তৃতীয় হাওড়ার শাশ্বতী দাস। জিতলেন ২০ হাজার টাকা।
বাকিরা সবাই দিনভর থেকে হাতে বিরিয়ানির সুগন্ধ মেখে, আনন্দ আর ভালোলাগায় আপ্লুত। প্রেমদিবসের বিকেলে অজস্র ভালোবাসা
জানিয়ে বিদায় নিলেন দ্য বিরিয়ানি কুকঅফ থেকে।