জলেশ্বর মন্দিরে পুজো ঘিরে নামখানায় উৎসবের আমেজ, ভিড় করছেন ভক্তরা

জলেশ্বর মন্দিরে পুজো ঘিরে নামখানায় উৎসবের আমেজ, ভিড় করছেন ভক্তরা

প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে নামখানার হরিপুর হাজরাঘেরির জলেশ্বর মন্দির। প্রতিবছর শিব চতুর্দশীর দিন মন্দিরে মহাসমারোহে পুজো হয়। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। 


জানা গিয়েছে, অতীতে সুন্দরিকা নদীর কূল ছিল জঙ্গলে ভরা। সেই সময় এই এলাকায় খুব কম সংখ্যক মানুষ বসবাস করতেন। তাঁদের মধ্যে এক বয়স্ক বৃদ্ধা স্বপ্নাদেশ পান। তিনি স্বপ্নে দেখেন, গ্রামের শেষ প্রান্তে নদীর কূলে একটি বাণী গাছ রয়েছে। সেই গাছের গোড়ায় একটি ছোট গর্ত। সেখানে সারাক্ষণ জলের বুদবুদ ওঠে। ওই স্থানেই জলেশ্বর দেবতা রয়েছেন। সেখানে পুজো করলে গ্রামের সবার মঙ্গল হবে। পরের দিন সকালে তিনি এই স্বপ্নের কথা গ্রামবাসীদের জানান। এরপর সবাই ওই স্থানে গিয়ে সে দৃশ্য লক্ষ্য করেন। তারপর থেকেই ওখানে শুরু হয় পুজো। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজো চলে আসছে। এখন ওই গর্তটি কুণ্ডলী আকারে তৈরি করা হয়েছে। তা থেকে আজও জলের বুদবুদ ওঠে।

এলাকাবাসীর বিশ্বাস এই মন্দিরে দেবাদিদেব জলেশ্বর রূপ নিয়ে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরের ভিতরে অবস্থিত কুণ্ডলীটির গভীরতা প্রায় ৩০ ফুট। ১৫ ফুট জলের নীচে রয়েছে শিবলিঙ্গ। এ বিষয়ে গ্রাম কমিটির সম্পাদক হিমাংশুশেখর বেরা বলেন, ‘অতীতে গ্রামবাসীরা ওই গর্তটির চারিদিকে ইট গেঁথে কুণ্ডলী তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ১৯৮৩ সালের বন্যায় সেটি ভেঙে যায়। এরপর চাঁদা তুলে ওই স্থানে স্থায়ী মন্দির তৈরি করা হয়েছে। আর ওই মন্দিরের ভিতরে উঁচু করে কুণ্ডলী তৈরি করা হয়েছে। শিব চতুর্দশীর দিন প্রচুর সংখ্যক ভক্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে জল নিয়ে এসে ওখানে ঢালেন। এলাকাবাসীর বিশ্বাস এই মন্দিরে মানত করলে, তা পূরণ হয়। বর্তমান মন্দিরের নামে তিনবিঘা জমি রয়েছে। পুজোর দুই দিন মেলা বসে। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *