আর্কটিকের বরফ গলছে দ্রুত, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বড় বিপদের সংকেত! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ
আর্কটিক বা উত্তর মেরুর সমুদ্রের বরফ আশঙ্কাজনক দ্রুতগতিতে গলে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে করা এক নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের তুলনায় বর্তমানে আর্কটিক সাগরে বরফ গলে থাকার সময়সীমা প্রায় সাড়ে ৭ দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সমুদ্র স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করছে, যা গোটা পৃথিবীর উষ্ণায়নকে ঠেলে দিচ্ছে এক বিপজ্জনক স্তরে।
উষ্ণায়নের ভয়ংকর দুষ্টচক্র বিজ্ঞানীদের মতে, উজ্জ্বল সাদা বরফ সূর্যালোকের প্রায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ তাপ প্রতিফলিত করে মহাকাশে ফেরত পাঠায়। কিন্তু বরফ গলে গেলে প্রকাশ পাওয়া গাঢ় রঙের সমুদ্রের জল মাত্র ৭ শতাংশ আলো প্রতিফলিত করতে পারে। ফলে সমুদ্র অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে দ্রুত গরম হয়ে উঠছে। এই জমে থাকা তাপের কারণে শরৎকালে নতুন করে বরফ তৈরি হতে দেরি হচ্ছে। আর যে বরফ জমছে, তাও তুলনামূলকভাবে বেশ পাতলা ও দুর্বল। পরবর্তী বসন্ত ও গ্রীষ্মে সেই পাতলা বরফ আরও সহজে গলে গিয়ে তৈরি করছে এক অবিরত ও ক্ষতিকর ‘দুষ্টচক্র’।
বিপদে বাস্তুতন্ত্র ও সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল বরফের ওপর জমে থাকা তুষারের স্তর পাতলা হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে আর্কটিকের নিজস্ব জীববৈচিত্র্য। বিশেষ করে মেরু ভাল্লুক এবং সিল—যারা মোটা বরফ ও তুষারের স্তূপে ডেরা বানিয়ে বংশবৃদ্ধি করে, তাদের প্রজনন ও প্রাকৃতিক বাসস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একই সঙ্গে, পাতলা বরফ ভেদ করে অতিরিক্ত আলো পৌঁছানোর কারণে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের মূল ভিত্তি ‘ক্ষুদ্র শৈবাল’-এর স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব মাছসহ বড় সামুদ্রিক প্রাণীদের ওপর পড়ছে, যা স্থানীয় মৎস্যশিল্পের জন্যও বড় হুমকির কারণ।
অ্যান্টার্কটিকার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক হুমকি আর্কটিক স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা মহাসাগর হলেও অ্যান্টার্কটিকা হলো মহাসাগর দিয়ে ঘেরা একটি পূর্ণাঙ্গ মহাদেশ। ভৌগোলিক পার্থক্যের কারণে দুই মেরুর পরিবর্তনের ধরন আলাদা হলেও, গত চার বছরে অ্যান্টার্কটিকাও রেকর্ড পরিমাণ বরফ হারিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মেরু অঞ্চলের এই পরিবর্তন কেবল স্থানীয় বরফ কমার বিষয় নয়; এটি গোটা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ পরিবেশের জন্য এক বড় অশনি সঙ্কেত।