হাওড়ায় রাম-কালীর জয়গান, যুবসমাজকে বড় বার্তা দিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ
হাওড়ায় শুভেন্দু-ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বৈঠক ও সাংস্কৃতিক বার্তা গীতা পাঠ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। হাওড়ায় আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানে তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) এবং রাজ্যের ধর্মীয় পরিবেশ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি বাস্তবায়নে কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বাংলায় বাগেশ্বর ধামের একটি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে অনুরোধ জানান। কলকাতাকে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বাংলার হারানো সাংস্কৃতিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হবে।
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ৩টি বড় দাবি অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে তিনটি প্রধান বিষয় সামনে আনেন:
- গঙ্গাসাগর মেলা: ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাসাগর মেলাকে অবিলম্বে ‘জাতীয় মেলা’-র মর্যাদা দেওয়া।
- গো-সংরক্ষণ: গরুকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা।
- শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা: কালীপূজার সময় বিভিন্ন এলাকায় উদ্ভূত ছোটখাটো অশান্তি ও সংঘর্ষ বন্ধে প্রশাসনিকভাবে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
‘রাম-কালী সবার’: অরাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান হিন্দুত্ব ও ভারতের পরিচয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী মন্তব্য করেন, চিন্তাভাবনা ও আদর্শের দিক থেকে ভারত ইতিমধ্যেই একটি হিন্দু রাষ্ট্র। তবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক বার্তা দিতে বাংলায় আসেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি একজন সাধু। রাম সবার, কৃষ্ণ সবার এবং কালীও সবার।” ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আধ্যাত্মিক আলোচনা সমাজের সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেন-জি ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ বার্তা দেশের যুবসমাজকে জাতির আসল শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। বিমানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে সঠিক দিক নির্ধারণ করা বেশি জরুরি। বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর যুগে তরুণরা দ্রুত এগোলেও জীবনের সঠিক লক্ষ্য নির্বাচনে যেন ভুল না করে। জেন-জি (Gen-Z) ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা, শিক্ষা, দেশপ্রেম ও সঠিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য পরিবার, শিক্ষক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।