ত্রাণের ত্রিপল নিয়ে কারচুপি! ৫০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী? – বর্তমান বাংলা
বর্তমান ডেস্কঃ
মালদা:
গঙ্গার তীব্র ভাঙনে যখন ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই সরকারি ত্রাণের ত্রিপল নিয়ে শুরু হলো টাকা তোলার অভিযোগ! মানিকচক ব্লকের ভুতনি থানার হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে সরকারি ত্রিপল বিক্রির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনায় কাঠগড়ায় উঠছেন নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য সবিতা মাহাতো এবং তাঁর স্বামী নিমাই মাহাতো।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়ির বারান্দায় তাঁর স্বামী নিমাই মাহাতো খাতা-কলম নিয়ে বসে আছেন। গ্রামবাসীরা লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা দিচ্ছেন, আর সেই টাকার বিনিময়ে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সরকারি ত্রিপল।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী বিমল মণ্ডল, আজাদ আলিদের অভিযোগ, “ভাঙনের মুখে পড়ে চরম বিপদে আমরা খোলা আকাশের নিচে রয়েছি। অথচ পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, টাকা না দিলে সরকারি ত্রিপল পাওয়া যাবে না। বাধ্য হয়ে ৫০-১০০ টাকা দিয়ে আমাদের নতুন ত্রিপল কিনতে হচ্ছে।”
এদিকে পঞ্চায়েত প্রধান (বিজেপি) অনিমা মণ্ডল এই ঘটনার কড়া প্রশাসনিক তদন্ত দাবি করেছেন। মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল ও তৃণমূলের জেলা নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ—উভয় পক্ষই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি তুলেছেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নিমাই মাহাতো দাবি করেছেন, “চক্রান্ত করে এই ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে। আমি কোনো টাকা নিইনি, নিয়ম মেনে যোগ্যদের তালিকা দেখেই ত্রিপল দেওয়া হচ্ছিল।”
তবে বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই মানিকচক ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে ভুতনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মালদার অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বিডিও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।