শক্তি প্রদর্শন নয়, সেবাব্রতেই বিশ্বজয়! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ
‘মহাশক্তিধর’ রাষ্ট্র হিসাবে শক্তিপ্রদর্শন নয়, বরং বিশ্ববাসীর সেবা করেই ভারত প্রকৃত ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কানাডার মাটিতে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এমনটাই দাবি করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বিশ্বমঞ্চে ভারতের উত্থানের অর্থ কোনো ধরনের আধিপত্য বিস্তার বা সাম্রাজ্যবাদ নয়, বরং এটি একটি আরও ঐক্যবদ্ধ ও মুক্ত মানবসমাজ গড়ে তোলার প্রয়াস। ভারতীয় সভ্যতার মূল ঐতিহ্য হলো জ্ঞান বিতরণ করা, অন্য দেশ আক্রমণ করা কিংবা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা নয়। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয়রা যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই শান্তি, সভ্যতা, গণিত এবং আয়ুর্বেদের মতো মূল্যবান জ্ঞান ছড়িয়ে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় ত্রাতা হয়ে ওঠা—প্রতিটি পদক্ষেপে ভারত প্রমাণ করেছে যে সেবা করাই তাদের আসল ডিএনএ। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা সমগ্র বিশ্বকে এক পরিবার হিসেবে দেখার এই প্রাচীন ধারণার ভিত্তি হলো সমগ্র মানবজাতিকে আপন ভাই হিসেবে গ্রহণ করা, তাদের ওপর কোনো ধরনের আধিপত্য বা মালিকানা ফলানো নয়। বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য স্থাপন এবং হিংসা বা শক্তির বদলে মৈত্রীর বন্ধনে বিশ্বসমাজকে আবদ্ধ করাই ভারতীয় সংস্কৃতির মূল বার্তা। সংঘপ্রধানের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হলেও, বিশ্বমঞ্চে ভারতের সংস্কৃতি ও মানবিকতার জয়গান যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা অনস্বীকার্য।