চিনে কি সত্যিই বর্ণপ্রথা চলছে? তোলপাড় করা ‘হুকোউ’ ব্যবস্থা নিয়ে জানুন চমকপ্রদ তথ্য!

চিনে বর্ণপ্রথা বা জাতিভেদ প্রথা চালু রয়েছে বলে ভারতীয় নেটাগরিকদের একাংশের দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেজিং তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে এবং চিন সরকারের মুখপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’ এই দাবিকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৫০-এর দশকে মাও জে দংয়ের আমলে প্রবর্তিত চিনের ‘হুকোউ’ ব্যবস্থা।

‘হুকোউ’ হলো একটি বংশানুক্রমিক অভ্যন্তরীণ পাসপোর্ট ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নাগরিকদের বাসিন্দা হিসেবে গ্রাম ও শহরে বিভক্ত করা হয়। এই ব্যবস্থার কারণে গ্রামের বাসিন্দারা শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস বা সম্পত্তি কেনার আইনি অধিকার পান না, যা দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়ে আসছে। এটি মূলত শিল্পকারখানায় সস্তায় শ্রমিক সরবরাহ এবং শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও, এর ফলে গ্রামীণ ও শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আর্থসামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

অনেক বিশ্লেষক এবং ইতিহাসবিদ এই বংশানুক্রমিক নিয়মকে রাষ্ট্রের তৈরি এক ধরণের ‘নগরভিত্তিক বর্ণপ্রথা’ বলে মনে করছেন। যদিও চিনা বিশ্লেষকরা একে সরাসরি একটি প্রশাসনিক নিয়ম হিসেবে দাবি করছেন। গ্লোবাল টাইমস ভারতের জাতিভেদ প্রথাকে নিশানা করে এই বিতর্কের পাল্টা জবাব দিলেও, হুকোউ প্রথাকে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ বেজিংয়ের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *