পুজোর হিসাব নিয়ে সালিশি সভায় তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে ‘খুন’, চাঞ্চল্য মঙ্গলকোটে
নিজস্ব প্রতিবেদন, পূর্ব বর্ধমান: গ্রামের বারোয়ারি পুজোর আর্থিক হিসাব নিয়ে ডাকা এক সভায় যোগ দিয়ে আর ফেরা হলো না তৃণমূল নেতার। মঙ্গলকোটের অঞ্চল সভাপতি মিহির ঘোষকে (৬২) ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। টানা ৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার বর্ধমানের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ মে পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় স্থানীয় একটি বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন মঙ্গলকোট অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মিহির ঘোষ। পরিবারের অভিযোগ, বৈঠক শেষে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরই ইট, লাঠি ও অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মঙ্গলকোট প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বর্ধমানের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্ত ও অভিযোগ:
মিহির ঘোষের ছেলে প্রবীর ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলকোট থানায় একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
- তৃণমূলের অভিযোগ: তৃণমূল কর্মী বুদ্ধদেব পালের দাবি, মিহির ঘোষকে তৃণমূল সমর্থক হওয়ার অপরাধে বিজেপির উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে।
- বিজেপির প্রতিক্রিয়া: অন্যদিকে, বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার বিস্তারিত খোঁজ নেবেন। তবে তাঁর ইঙ্গিত, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হতে পারে, কারণ এই ধরনের কাজ অতীতে বিভিন্ন দলই করে থাকে।
ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে মৃতর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।