কাউন্সিলরের বাড়ি ঘিরে পুলিশের রুদ্ধশ্বাস অভিযান! ‘ছোট লালবাড়ি’র অন্দরে অষ্টম গ্রেপ্তারি, ফের শিরোনামে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রবিবার সকালের কলকাতা সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনার। জোড়াসাঁকোর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে রাখল পুলিশ। অবশেষে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাউন্সিলরকে পাকড়াও করতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে এটি যেন এক কালো অধ্যায়—তৃণমূলের অন্দরে পরপর আটজন কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারি এখন এক বিশাল ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ তৈরি করেছে।

কেন এই গ্রেপ্তার?

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই পুরনো ক্ষত—২০২৩ সালের এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনা। বর্তমানের ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, সেই পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কাউন্সিলর এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা লাগাতার হুমকি দিচ্ছিল। শনিবার রাতে পুনরায় ভুক্তভোগীর ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পকসো আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মতো কড়া ধারায় মামলা রুজু হয়েছে কাউন্সিলর ও তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে।

সকাল থেকে রুদ্ধশ্বাস নাটক:

রবিবার ভোর থেকেই জসিমউদ্দিনের বাড়ির সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি স্থানীয়দের নজর কাড়ে। কাউন্সিলর যাতে কোনোভাবেই এলাকা ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার রাতেই পাটুলির ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেপ্তারির রেশ কাটতে না কাটতেই জসিমউদ্দিনের এই পরিণতিতে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

পুরসভায় কি বড় কোনো ভাঙন আসছে?

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শাসকদলের একের পর এক কাউন্সিলরের এহেন গ্রেপ্তারি কেবল স্থানীয় স্তরে নয়, বরং খোদ পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোকেও বড়সড় সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ২০১৫ সালে সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া জসিমউদ্দিন বরাবরই ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী, কিন্তু সেই প্রভাবও শেষমেশ আইনি জালে আটকা পড়ল।

‘ছোট লালবাড়ি’ অর্থাৎ কলকাতা পুরসভার অন্দরে এখন এক অজানা আতঙ্ক। পরপর আটজন কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারি কি ইঙ্গিত দিচ্ছে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার? নাকি প্রশাসনিক কঠোরতার মুখে পড়ে একের পর এক উইকেট পড়ছে শাসকদলের? সবমিলিয়ে, রবিবার থেকে পুরসভার অন্দরে শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *