হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নজরদারি, আধিকারিকদের ওপর হামলা: কীভাবে চলত দীপক রায়ের সিন্ডিকেট?
ময়নাগুড়ির সাপ্টিবাড়ি এলাকার প্রভাবশালী নেতা দীপক রায়ের গ্রেফতারি এবং তাঁর গড়ে তোলা অবৈধ সিন্ডিকেট নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হলো:
ময়নাগুড়ির ‘মুকুটহীন সম্রাট’ দীপক রায়ের অপরাধ সাম্রাজ্য ও পতন
তৃণমূল সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর রাজ্যজুড়ে চলা দুর্নীতির তদন্তে এবার ধরা পড়লেন ময়নাগুড়ির দাপুটে নেতা দীপক রায়। অবৈধ বালি পাচার থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকদের ওপর হামলা—দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক অভিযোগ এখন নতুন করে সামনে আসছে।
১. অবৈধ বালি পাচারের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক:
দীপক রায় কেবল বালি পাচার করতেন না, এর জন্য তিনি একটি সুসংগঠিত বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন।
- নজরদারি ও তথ্য আদান-প্রদান: পাচারের সময় তাঁর বাহিনী মোটরবাইকে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাত। পুলিশ, প্রশাসন বা সংবাদমাধ্যমের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে তাঁরা ব্যবহার করতেন বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। কোথায় অভিযান হতে পারে বা কোন গাড়ি কোথায় যাচ্ছে—প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য শেয়ার করা হতো ওই গ্রুপে।
- তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট: বৈধ বালি খাদানের কাজও তিনি আটকে দিতেন। স্থানীয়দের উসকে আন্দোলন বা বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি করে পরে সেই সমস্যা ‘মিটিয়ে দেওয়ার’ নামে প্রতিটি ডাম্পার থেকে বেআইনি অর্থ আদায় করতেন।
২. সরকারি আধিকারিকদের ওপর হামলা:
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে:
- মেখলিগঞ্জের বিএলএলআরও সুজন রায় এবং আধিকারিক প্রশান্ত মণ্ডলকে তাঁর দলবল মারধর করেছিল।
- জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে যামিনী রায় নামক এক ব্যক্তিকে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
- সরকারি কর্মীদের মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘদিন ক্ষমতার দাপটে তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
৩. সম্পত্তির বিশাল খতিয়ান:
অবৈধ ব্যবসার অর্থে দীপক রায় বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। তাঁর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে:
- কর্পোরেট ধাঁচে তৈরি নিজস্ব চেম্বারসহ একটি সুদৃশ্য রেস্তোরাঁ।
- ময়নাগুড়ি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিবেকানন্দ পল্লিতে কোটি টাকা মূল্যের ৪৫ ডেসিমেল জমি।
- নামে-বেনামে আরও প্রচুর সম্পত্তি ও বিলাসবহুল জীবনযাপন।
৪. বর্তমান পরিস্থিতি:
গত সোমবার ময়নাগুড়ি পুলিশ দীপক রায় এবং তাঁর দুই শাগরেদ—তপন অধিকারী ও চন্দন অধিকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ এখন ধৃতের মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছে, যাতে এই চক্রের সাথে আরও কারা যুক্ত আছে তা বেরিয়ে আসে। অন্যদিকে, ধৃতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।