তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ, ২০ সাংসদ ও ৫০ বিধায়ক বিজেপিতে আসার অপেক্ষায় দাবি সৌমিত্রর
রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে ফের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এই মুহূর্তে তীব্র দলীয় অসন্তোষ চলছে দাবি করে তিনি শাসকদলের এক বড় অংশকে নিশানা করেছেন। প্রবীণ ও নবীন শিবিরের সাম্প্রতিক মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের আবহে বিজেপি সাংসদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবুজ সংকেতের অপেক্ষা ও দলবদলের জল্পনা
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন এই যুবনেতার দাবি, বর্তমান ঘাসফুল শিবিরের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক তাঁদের নিজস্ব দলীয় নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে চরম অসন্তুষ্ট। তাঁরা প্রত্যেকেই পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রেখেছেন। শুধু বিধায়কই নন, একই সাথে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও বিজেপিতে আসতে চান বলে দাবি করেছেন তিনি। সৌমিত্র খাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সমস্ত অসন্তুষ্ট জনপ্রতিনিধিরা কেবল দিল্লির কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। হাইকম্যান্ডের অনুমতি মিললেই রাজ্যে এক বড়সড় রাজনৈতিক দলবদল সংগঠিত হতে পারে।
অস্তিত্ব সংকট ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেন, আগামী দিনে রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক এবং তাঁর অনতিবিলম্বে জেলে যাওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন বিভিন্ন জেলায় পুলিশি কড়াকড়ি ও দলীয় কোন্দল সামনে আসছে, তখন সৌমিত্র খাঁর এই দাবিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই মুহূর্তে অন্য দল থেকে যোগদানের বিষয়ে কী নীতি নেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।