‘ক্ষোভ থাকলে প্রকাশ্যে নয়, লিখিত জমা দিন’, দলীয় স্তরে কড়া দাওয়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র অন্তর্কলহ ও ক্ষোভপ্রকাশের জেরে এবার দলীয় স্তরে চরম কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবাসরীয় বিকেলে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় শীর্ষ থেকে নিচু স্তরের সমস্ত নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিয়েছেন। দলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে বা কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তা সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে না এনে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে লিখিত আকারে দলের প্রবীণ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনে হারের পর দলের শৃঙ্খলা যাতে কোনোভাবেই ভেঙে না পড়ে এবং পরাজয়ের প্রকৃত কারণগুলি যাতে নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা যায়, সেই লক্ষ্যেই তৃণমূলনেত্রীর এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেই দলবিরোধী কাজের তকমা
নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে খোদ কলকাতার বুকে দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা যাচ্ছিল তৃণমূলের একাংশকে। দলের এই নড়বড়ে পরিস্থিতির রাশ টানতে কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছেন:
- প্রকাশ্যে মুখ খোলা নিষিদ্ধ: দলের অন্দরের কোনো বিষয় বা কোনো নেতার কাজ নিয়ে কোনো কর্মী বা নেতার আপত্তি থাকলে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে বা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কোনো রকম বিবৃতি দেওয়া যাবে না।
- লিখিত অভিযোগ বাধ্যতামূলক: সমস্ত অভিযোগ ও অসন্তোষের কথা পয়েন্ট আকারে লিখে তা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাতে সঁপে দিতে হবে।
পরাজয়ের কারণ খুঁজতে স্ক্রিনিং কমিটি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে তৃণমূলের অন্দরে একটি বিশেষ স্ক্রিনিং বা শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি সক্রিয় করা হচ্ছে, যার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। নেতাদের জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগগুলি এই কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে এবং কার গাফিলতি বা অন্তর্ঘাতের কারণে দল কোন কোন আসনে হেরেছে, তার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে সরাসরি দলনেত্রীর কাছে জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক রদবদল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০ বছরেরও বেশি সময় পর বিরোধী আসনে বসার ধাক্কা সামলাতে যেখানে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা প্রয়োজন, সেখানে দলের হেভিওয়েট নেতাদের এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি তৃণমূলের রাজনৈতিক জমিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া ও সুশৃঙ্খল দাওয়াই দলের অন্দরের বিদ্রোহ দমন করতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।