ইমাম মোয়াজ্জিন ভাতার স্বচ্ছতায় কড়া মুখ্যমন্ত্রী, এবার টাকা মিলবে কেবল নির্দিষ্ট পোর্টালে

পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক রদবদলের পর সরকারি কোষাগারের অর্থ বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের চলে আসা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে এবার সরাসরি অনলাইন পোর্টাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনো ধরনের বেনিয়ম রুখতে নির্দিষ্ট পোর্টাল ছাড়া আর অন্য কোনো উপায়ে ভাতা প্রদান করা যাবে না।
প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতায় নজর প্রশাসনের
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪২ হাজার ইমাম এবং ২৭ লক্ষ মোয়াজ্জিন ভাতা পেয়ে থাকেন। এই বিশাল সংখ্যক প্রাপকের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত পোর্টালে আপলোড করার জন্য সংখ্যালঘু দফতরের সচিব ডঃ পিভি সেলিমকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, যাঁদের তথ্য এই পোর্টালে যথাযথভাবে নথিভুক্ত থাকবে, একমাত্র তাঁরাই ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত ভুয়া নামের তালিকা বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
পূর্বতন জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত চালুর নির্দেশ
সংখ্যালঘু দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই অনলাইন পোর্টালটি প্রায় এক বছর আগেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী সরকারের আপত্তির কারণে এটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করলে এই তথ্য সামনে আসে। এরপরই কালক্ষেপ না করে দ্রুততার সঙ্গে পোর্টালটি সচল করার নির্দেশ দেন তিনি। সংখ্যালঘু দফতরের সচিব জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মেলায় বৃহস্পতিবার থেকেই এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা শুরু হবে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাতার টাকা সরাসরি প্রাপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত দুর্নীতির পথ বন্ধ করবে। এতদিন পর্যন্ত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে যে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠত, পোর্টালে তথ্য আপলোড বাধ্যতামূলক হওয়ায় তা দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের ইমাম ও মোয়াজ্জিনরা যেমন সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন, তেমনই প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এটি একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।