প্রহর গুনছে আন্দামান, নির্ধারিত সময়ের আগেই কি তবে দেশে বর্ষার কড়া নাড়া!

তীব্র দাবদাহের মাঝেই স্বস্তির বার্তা দিল ভারতীয় মৌসম বিভাগ। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৫-৬ দিন আগেই ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আগামী ১৬ মে-র মধ্যেই দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বেশ কিছু অংশে বর্ষা ঢুকে পড়ার জন্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনুকূল হয়ে উঠেছে।
এগিয়ে আসছে মৌসুমি বায়ু
সাধারণত আন্দামান সাগরে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময় ২০ থেকে ২২ মে। তবে এবার নিম্নচাপের শক্তি বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলের অনুকূল পরিস্থিতির কারণে সপ্তাহান্তেই বৃষ্টির আবাহন শুরু হতে পারে দ্বীপপুঞ্জ এলাকায়। মৌসম ভবনের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হবে, যা মৌসুমি বায়ুকে দ্রুত ভারতের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করবে। তবে আন্দামানে আগে বর্ষা আসা মানেই যে কেরলের মূল ভূখণ্ডে তা দ্রুত আছড়ে পড়বে, এমনটা নিশ্চিত নয়। কেরলে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময় ১ জুন হলেও, সেখানের পূর্বাভাস নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছু জানায়নি আইএমডি।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা ও প্রভাব
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১৩ থেকে ১৮ মে-র মধ্যে দক্ষিণ ভারতের কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং কর্ণাটকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকা উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
বাংলাসহ পূর্ব ভারতের আবহাওয়া
মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয়তার প্রভাবে পূর্ব ভারতেও বৃষ্টির দাপট বাড়বে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৬ মে-র মধ্যে হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গেও বজ্রপাতসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশাতেও দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা চলতি তাপপ্রবাহ থেকে সাধারণ মানুষকে সাময়িক মুক্তি দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বছর বর্ষার এই আগাম পদধ্বনি কৃষি খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন।