অবৈধ নির্মাণ ও কারখানায় কাটবে জল এবং বিদ্যুৎ সংযোগ! তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া ব্যবস্থার পথে রাজ্য সরকার

অবৈধ নির্মাণ ও কারখানায় কাটবে জল এবং বিদ্যুৎ সংযোগ! তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া ব্যবস্থার পথে রাজ্য সরকার

তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য প্রশাসন। শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানা ও বিপজ্জনক নির্মাণগুলোর বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে সমস্ত নির্মাণে ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা বৈধ নথিপত্র নেই, সেখানে অবিলম্বে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

তিলজলাকাণ্ডে তদন্ত কমিটির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

তিলজলার ঘটনার তদন্তে গঠিত চার দফতরের সমন্বয়ে তৈরি কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সূত্রের খবর, রিপোর্টে শহরের অবৈধ ওয়ার্কশপগুলোর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিলজলার মতো এলাকায় এমন বহু অবৈধ কারখানা রয়েছে যেগুলোর কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান নেই। এমনকি বিপদের সময় বাঁচার জন্য যে সামান্য ফায়ার সেফটি থাকা প্রয়োজন, তাও সেখানে অমিল। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেআইনি পরিকাঠামো রুখতে সাঁড়াশি অভিযান

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। তিলজলা, কসবা, মোমিনপুর ও একবালপুরের মতো ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে অবৈধ বিল্ডিং ও কারখানার তালিকা তৈরি করে দ্রুত অডিট শুরু করতে বলা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি-কে। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই ধরনের বিপজ্জনক নির্মাণগুলোর জলের লাইন কেটে দিতে। যে সমস্ত পরিকাঠামো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে, তা এক দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিলজলাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে শহরের ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা হাজার হাজার বেআইনি কারখানা বা ওয়ার্কশপ এখন বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমবে ঠিকই, কিন্তু একই সাথে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও ছোট শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, মানুষের প্রাণের সুরক্ষাই এই মুহূর্তে প্রশাসনের কাছে অগ্রাধিকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *