স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার পর এবার কি জ্বালানি তেলের দামে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার পর এবার কি জ্বালানি তেলের দামে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম ভারতের অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ফলে এই মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এই পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বিপুল ক্ষতির মুখে তেল বিপণন সংস্থাগুলো

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লেও ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা বিক্রয়মূল্য সেভাবে সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের লোকসান গুনছে। বিশ্ববাজারের দামের সাথে দেশের বাজারে জ্বালানির দামের ব্যবধান ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়াতে মূল্যবৃদ্ধি এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ধারণা করা হচ্ছে, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা এবং রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি অন্তত ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি সতর্কতা ও তৎপরতা

ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি ক্ষেত্রেও সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করে তিনি নিজের কনভয় থেকে ৫০ শতাংশ গাড়ি কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং এসপিজি-কে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে বলেছেন। এমনকি স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস এবং অফিসগুলোতে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর মতো বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী অবশ্য আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে দেশে জ্বালানি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তাকে ‘ওয়েক আপ কল’ বা আগাম হুঁশিয়ারি হিসেবে বিবেচনা করে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *