স্কুলের প্রার্থনায় এবার বাধ্যতামূলক বন্দে মাতরম, বড় পদক্ষেপ শিক্ষা দফতরের

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল ঘটিয়ে স্কুলগুলোতে প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ দিল শিক্ষা দফতর। বুধবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের। জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি এখন থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় গীত হিসেবে বন্দে মাতরম গাওয়া আবশ্যিক। এমনকি গানটি সঠিক নিয়ম মেনে গাওয়া হয়েছে কি না, তা স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষা দফতরে রিপোর্ট আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নতুন নিয়ম

চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বন্দে মাতরম নিয়ে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয় যে, এখন থেকে এই গানের মোট ৬টি স্তবকই গাইতে হবে এবং গানটি চলাকালীন শ্রোতাদের সসম্মানে উঠে দাঁড়াতে হবে। কেন্দ্রের সেই নীতিকে অনুসরণ করেই রাজ্যে এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে। সেই রেশ ধরেই শিক্ষা দফতরের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত।

প্রার্থনায় তিন গানের সমাহার ও সম্ভাব্য প্রভাব

পূর্বতন সরকারের আমলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটিকে রাজ্য সংগীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা বর্তমানেও স্কুলগুলোতে গাওয়া হয়। নতুন সরকারের এই নির্দেশিকার পর স্কুলগুলোতে প্রার্থনার সময় এখন জাতীয় সংগীত, রাজ্য সংগীত এবং রাষ্ট্রীয় গীত—এই তিনটি গানই গাইতে হবে পড়ুয়াদের। তবে রাজ্য সংগীত নিয়ে নতুন সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানানোয় আপাতত তিনটি গানই বহাল থাকছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে দেশাত্মবোধক চেতনার বিকাশ ঘটবে এবং রাষ্ট্রীয় গীতের মর্যাদা আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। তবে একসাথে তিনটি গান গাওয়ার সময়সীমা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে এক ধরনের ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে। মূলত জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করা এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার সাথে সামঞ্জস্য রাখাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *