মেসির রেকর্ড বেতনে তোলপাড় এমএলএস! একাই পাল্টে দিচ্ছেন ফুটবলের অর্থনীতি
মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি যেমন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, মাঠের বাইরের অঙ্কেও লিওনেল মেসি এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। মেজর লিগ সকার (এমএলএস) প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার বার্ষিক বেতন এখন প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা। এমএলএসের ইতিহাসে এটি কেবল সর্বোচ্চ নয়, বরং তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফুটবলারের আয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ২০২৬ সালের এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সন হিউং-মিন যেখানে ১১১ কোটি টাকা পাচ্ছেন, সেখানে মেসি একাই রোজগার করছেন ২৮৩ কোটি টাকা।
ইন্টার মায়ামির বিশাল বাজেট বনাম বাকি লিগ
মেসির এই আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক ইন্টার মায়ামির সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোকেই বদলে দিয়েছে। বর্তমানে এই ক্লাবের পুরো স্কোয়াডের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা। মজার বিষয় হলো, এমএলএসের ফিলাডেলফিয়ার মতো ক্লাবের পুরো স্কোয়াড খরচ মাত্র ১১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মেসির একার বেতন দিয়েই এমএলএসের প্রায় পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ক্লাব পরিচালনা করা সম্ভব। লিগের গড় বেতন যেখানে মাত্র ৬.৮ কোটি টাকা, সেখানে মেসির এই একক আধিপত্য লিগের ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মেসি ইকোনমি ও লিগের ভবিষ্যৎ
আগামী মাসে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি গত বছরই ইন্টার মায়ামির সাথে নতুন চুক্তিতে সই করেছেন। তাঁর এই বিশাল অঙ্কের পেছনে কেবল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, বরং মার্কেটিং বোনাস এবং সম্প্রচার স্বত্বের বিপুল আয় বড় ভূমিকা রাখছে। ৩৯ বছর বয়সেও ১১ ম্যাচে ৯ গোল করে মেসি প্রমাণ করছেন কেন তিনি এখনও বিশ্বসেরা। তবে এই বিপুল আর্থিক ব্যবধান এমএলএসকে একটি ফুটবল লিগের চেয়েও বেশি ‘মেসি প্রজেক্ট’ হিসেবে পরিচিত করছে। এর ফলে একদিকে যেমন লিগের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ছে, অন্যদিকে অন্যান্য ছোট ক্লাবগুলোর সাথে ইন্টার মায়ামির আর্থিক বৈষম্য প্রকট হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে এমএলএসের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।