মৃত্যুর পরেও অনুপ্রেরণা টুটু বসু! মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তায় চর্চা তুঙ্গে
বাংলার ক্রীড়া জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং মোহনবাগান ক্লাবের প্রাণপুরুষ স্বপন সাধন বসু ওরফে টুটু বসুর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ময়দান। মঙ্গলবার রাতে ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি ক্রীড়া প্রশাসক। সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরঘুমে চলে গেলেন ‘মোহনবাগান রত্ন’। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ক্রীড়া প্রশাসনে অসামান্য অবদান ও উত্তরাধিকার
মোহনবাগান ক্লাব এবং টুটু বসু কয়েক দশক ধরে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯১ সালে কিংবদন্তি ধীরেন দে-র উত্তরসূরি হিসেবে সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই ক্লাবের খোলনলচে বদলে দিতে শুরু করেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই মোহনবাগান একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ও পেশাদার ক্লাবে রূপান্তরিত হয়। ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব পালন করা টুটু বসুকে মনে রাখা হবে তাঁর সাহসিকতা ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য। ক্লাবের যেকোনো আর্থিক সংকট বা কঠিন সময়ে তিনি সবসময় ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় টুটু বসুর নেতৃত্ব ও খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, ওনার অবদান আগামী প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি ও অন্তিম যাত্রা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে প্রয়াত এই প্রাক্তন সাংসদের নশ্বর দেহ বালিগঞ্জের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও গুণমুগ্ধরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। এরপর একে একে ভবানীপুর ক্লাব এবং বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁর প্রিয় মোহনবাগান তাঁবুতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই শেষবারের মতো নিজের প্রিয় আঙিনায় ক্লাব পরিবার ও সমর্থকদের শ্রদ্ধা গ্রহণ করবেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
টুটু বসুর প্রয়াণ কেবল একটি ক্লাবের ক্ষতি নয়, বরং ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনের একটি যুগের অবসান। তাঁর অনুপস্থিতিতে ময়দান এক অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারাল, যার প্রভাব দীর্ঘকাল অনুভূত হবে ক্রীড়া মহলে।