তিলজলা কাণ্ডে বড় মোড়! রিপোর্টের আগেই কেন গ্রেফতার মালিক-সহ ২?
মঙ্গলবার দুপুরে তিলজলার এক চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে কারখানার মালিক জাফর নিশাদ এবং কারখানার ম্যানেজারকে। তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের ওই বহুতলের দোতলায় আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভেন্টিলেশনে রয়েছেন আরও দুই শ্রমিক।
অবৈধ নির্মাণ ও চরম গাফিলতির অভিযোগ
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই ওই বহুতলে চামড়ার কারখানা চালানো হচ্ছিল। ভবনের কাঠামো নির্মাণেও ছিল একাধিক অনিয়ম। অগ্নিকাণ্ডের সময় দেখা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় দমকল ঢোকা বা বেরোনোর জন্য কোনো জরুরি পথ ছিল না। মঙ্গলবার আগুন লাগার পর আতঙ্কিত কর্মীরা বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। ইতিমধ্য়েই এই ঘটনায় কড়া ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও তদন্তের গতি
তিলজলাকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার, পুর কমিশনার, দমকল এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প দফতরের সচিবকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে কোনোভাবেই আর বেআইনি কারখানা বা নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। আইনের শাসন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সাড়ে তিন মাস আগে নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই তিলজলার এই ঘটনা প্রশাসনিক তৎপরতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক ও অবৈধ বিল্ডিংগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তিলজলার এই ঘটনাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে রাজ্য প্রশাসন। এখন দেখার, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীকালে আর কী কী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।