ছদ্মনাম আর চিকিৎসার আড়ালে নদিয়ায় গোপন ডেরা! পুলিশের জালে ১৫ লক্ষ টাকার ‘ওয়ান্টেড’ মাও নেত্রী
নির্বাচনী ডামাডোল আর প্রশাসনের ব্যস্ততাকে ঢাল বানিয়ে নদিয়ার শান্ত গ্রামে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। ঝাড়খণ্ড এবং বাংলা পুলিশের এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে চাকদহের কাশিমপুর থেকে গ্রেফতার হলেন দুর্ধর্ষ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এই নেত্রীর মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। মাওবাদী সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য শ্রদ্ধার এই গ্রেফতারিকে বড়সড় সাফল্য হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা বিভাগ।
সারান্ডার জঙ্গল থেকে নদিয়ার গ্রাম
সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার ঘন জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মাওবাদী শিবিরগুলি বর্তমানে চরম সঙ্কটে। একদিকে রসদ সরবরাহ বন্ধ, অন্যদিকে চিকিৎসার সরঞ্জামের অভাব। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শ্রদ্ধা বিশ্বাস ও তাঁর এক সঙ্গী শারীরিকভাকে ভেঙে পড়লে তাঁরা চিকিৎসার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলায় ঢোকেন। গোয়েন্দাদের দাবি, অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে এবং পরিচয় গোপন করে এ রাজ্যে চিকিৎসা করিয়ে পরবর্তী সময়ে অসমে পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল তাঁদের। ভোট পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে নদিয়ায় প্রবেশ করলেও গোয়েন্দা নজরদারি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
পাঁচ ছদ্মনাম ও দু দশকের জঙ্গলজীবন
গ্রেফতার হওয়া ৫৫ বছর বয়সী শ্রদ্ধা বিশ্বাস দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বেলা সরকার, পঞ্চমী, দীপা সরকার, সন্ধ্যা ও শ্রদ্ধা— এই পাঁচটি ভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে তিনি দিনের পর দিন পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছেন। মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তীর শ্যালিকা শ্রদ্ধা এবং তাঁর স্বামী শ্যাম শিঙ্কু দুজনেই স্কোয়াডে সক্রিয়। কাশিমপুর গ্রামে এক এপিডিআর সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও সংশ্লিষ্ট গৃহকর্তার দাবি, মানবিক খাতিরে অসুস্থ দুই মহিলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, তাঁদের আসল পরিচয় তাঁর জানা ছিল না।
নিরাপত্তা ও প্রভাব বিশ্লেষণ
শ্রদ্ধা বিশ্বাসের গ্রেফতারি মাওবাদী সংগঠনের জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড ও বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাঁর যে নেটওয়ার্ক ছিল, তা এই অভিযানে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল। জঙ্গলমহল ছাড়িয়ে সমতলে মাওবাদীদের এই গোপন আস্তানা গেঁড়ে বসার চেষ্টা পুলিশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মাওবাদীদের ‘অপারেশনাল’ ক্ষমতার অভাব এবং লজিস্টিক সাপোর্ট কমে আসার বিষয়টিই এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে, শ্রদ্ধার এই যাতায়াতের পথে আর কারা স্থানীয়ভাবে মদত দিয়েছিল। এই গ্রেফতারির ফলে মাওবাদীদের অন্তর্বর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।