নিজস্ব গাড়ি বা বাইকে নেপাল ভ্রমণে কড়াকড়ি, না মানলে বড় বিপদের আশঙ্কা!

নিজস্ব গাড়ি বা বাইকে নেপাল ভ্রমণে কড়াকড়ি, না মানলে বড় বিপদের আশঙ্কা!

নিজস্ব গাড়ি কিংবা বাইকে চড়ে বিদেশ ভ্রমণের শখ অনেকেরই থাকে। তবে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা প্রতিবেশী দেশ নেপাল ভ্রমণে যেতে চাইলে এখন থেকে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। নেপাল সরকার ভারতীয় নম্বরের যানবাহনের জন্য একগুচ্ছ নতুন নিয়ম জারি করেছে, যা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ভারতীয় নম্বরের গাড়ি নিয়ে ওই দেশে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের বেশি থাকার অনুমতি মিলবে না।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও ডিজিটাল পারমিট বাধ্যতামূলক নেপাল সরকারের অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ডিপার্টমেন্ট অফ কাস্টমস’ জানিয়েছে, সীমান্তে ভিড় কমাতে এবং কর ফাঁকি রুখতে ‘টেম্পোরারি ইমপোর্ট ভেহিকল সিস্টেম’ (TIVS) চালু করা হয়েছে। এখন থেকে ভারতীয় নম্বরের গাড়ি নেপালে প্রবেশের আগেই এই অনলাইন পোর্টালে যাবতীয় তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। বাড়িতে বসেই এই পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়ে ফি মেটানো যাবে। রেজিস্ট্রেশন সফল হলে পর্যটকের ই-মেলে একটি কিউআর কোড পাঠানো হবে, যা ডিজিটাল পারমিট হিসেবে গণ্য হবে।

এই ৩০ দিনের সময়সীমা কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নেপাল সরকার। পর্যটকরা এই ৩০ দিন একটানা থাকতে পারেন অথবা একাধিক সফরে ভাগ করে নিতে পারেন। নিয়ম ভঙ্গ করলে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা এবং মোটা অংকের জরিমানা আদায়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে গাড়ি নিলাম করার বিধানও রাখা হয়েছে নয়া ফরমান।

ট্যাক্স ফাঁকি রোধ ও পর্যটকদের পরিচয় যাচাই মূলত ভারত থেকে সস্তায় কেনা গাড়ি নেপালে বেআইনিভাবে ব্যবহার রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সাধারণ পর্যটকদের ওপর এর বিশেষ কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ, অধিকাংশ পর্যটকই এক মাসের বেশি সময় নেপালে অবস্থান করেন না। এই নতুন ব্যবস্থায় দু’চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে টোল ট্যাক্স কিছুটা কম হলেও চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে তা তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি, সীমান্তে প্রবেশের সময় পরিচয়পত্র যাচাইয়েও বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এখন থেকে ভারতীয় পর্যটকদের ভোটার আইডি কার্ড কিংবা পাসপোর্টের মতো বৈধ পরিচয়পত্র [Aadhaar Redacted] সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল চুক্তি অনুযায়ী ভিসা ছাড়াই যাতায়াত অবাধ থাকলেও, সুরক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার খাতিরেই এই নয়া নিয়মগুলো কঠোরভাবে বলবৎ করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *