সস্তায় সেকেন্ড হ্যান্ড এসি কেনার নেশা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ
তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে মধ্যবিত্তের বড় ভরসা হয়ে উঠছে সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফার্বিশড এসি। শোরুমের তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া যাওয়ায় অনেকেই পুরনো এসির দিকে ঝুঁকছেন। তবে সস্তায় এসি কেনার এই সিদ্ধান্ত সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সতর্কতা ছাড়া নিলে তা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো যন্ত্রাংশের অবহেলা কেবল পকেটের ওপর চাপ বাড়ায় না, বরং জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
পুরনো এসিতে ঝুঁকির নেপথ্যে
সেকেন্ড হ্যান্ড এসির মূল ঝুঁকি থাকে এর যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক সংযোগে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এসির কম্প্রেসর দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দ্রুত উত্তপ্ত হওয়ার প্রবণতা দেখায়। এছাড়া নিম্নমানের রেফ্রিজারেন্ট বা ভুল পদ্ধতিতে গ্যাস রিফিল করার ফলে এসির অভ্যন্তরীণ চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা থাকে। পুরনো এসির ভেতরের বৈদ্যুতিক তার আলগা হয়ে থাকা বা নিম্নমানের এক্সটেনশন কর্ড ব্যবহারের ফলে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটাও অস্বাভাবিক নয়। নোংরা ফিল্টার ও কপার কয়েলে জমে থাকা ধুলোবালি মেশিনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিপদের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
সতর্কতা ও সুরক্ষার উপায়
পুরনো এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপদের কিছু আগাম সঙ্কেত চেনা জরুরি। যন্ত্র থেকে পোড়া গন্ধ পাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া, ঘর ঠান্ডা না হয়ে এসির বডি অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা ঘন ঘন এমসিবি ট্রিপ করার মতো ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। গ্যাস লিকের গন্ধ বা হিসহিস শব্দ পাওয়া গেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিপদ এড়াতে দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো এবং জেনুইন পার্টস ব্যবহারের বিকল্প নেই। ভোল্টেজের ওঠানামা সামলাতে ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার ও প্রতি মাসে ফিল্টার পরিষ্কার রাখা জরুরি। সর্বোপরি, যন্ত্রটিকে বিরতিহীনভাবে না চালিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্রাম দিলে ওভারহিটিং বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব। সামান্য অর্থ বাঁচাতে গিয়ে নিরাপত্তাকে অবহেলা করলে তা মারাত্মক পরিণাম ডেকে আনতে পারে।