নিখুঁত জাতিগত পরিচয় নিশ্চিত করতে জঙ্গলমহলে গ্রামে গ্রামে কমিটি গড়ছে কুড়মিরা

জঙ্গলমহলের চার জেলা— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে কুড়মি জনজাতির সঠিক তথ্য নথিবদ্ধ করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে ‘আদিবাসী কুড়মি সমাজ’। ২০২৬ সালের আসন্ন জনগণনায় জাতি, ভাষা ও ধর্মের কলামে যাতে কোনো প্রকার ভুল না হয়, তা নিশ্চিত করতেই গ্রাম স্তরে বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাওতা দহগি’, যার মূল লক্ষ্য হলো জনগণনার কাজে আসা সরকারি কর্মীদের সহায়তা করা এবং সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করা।

একতা ও সঠিক তথ্য যাচাই

আদিবাসী কুড়মি সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জঙ্গলমহলের প্রায় ৪ হাজার কুড়মি অধ্যুষিত গ্রামে এই কমিটিগুলো কাজ করবে। শুধুমাত্র পুরুলিয়া জেলাতেই এমন গ্রামের সংখ্যা প্রায় ১৪০০। কুড়মি নেতৃত্ব গ্রামগুলোতে বৈঠকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন যে, জাতি ও ভাষার ঘরে ঠিক কী লিখতে হবে এবং তার বানান কী হবে। লক্ষ্য হলো, সারা রাজ্যে কুড়মি জনজাতির তথ্য যেন একই বানান ও সংজ্ঞায় নথিবদ্ধ হয়, যাতে গণনার ক্ষেত্রে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

জাতিসত্তা আন্দোলনে বড় পদক্ষেপ

কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর মতে, ১৯৩১ সালের পর এই প্রথমবার জাতিভিত্তিক জনগণনা হতে চলেছে, যা তাঁদের দীর্ঘকালীন জাতিসত্তা আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সহায়তা করার পাশাপাশি এই কমিটিগুলো নজর রাখবে যাতে কুড়মিদের দাবি অনুযায়ী তাঁদের ভাষা ও ধর্মীয় পরিচয় সঠিকভাবে নথিবদ্ধ করা হয়। এই পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত জাতিগত দাবিগুলো ভবিষ্যতে জোরালো ভিত্তি পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও প্রভাব

সম্প্রতি রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই জনগণনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর তারিখ জানানো হয়নি, তবে কুড়মিরা আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে। সঠিক তথ্য নথিবদ্ধ হলে জনজাতির প্রকৃত জনসংখ্যা ও সামাজিক অবস্থান স্পষ্ট হবে, যা পরবর্তী সময়ে তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বিশেষ সহায়ক হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *