এক যুগ আগের সেই নৃশংসতা কেন এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে শমীক ভট্টাচার্যকে

ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে ১২ বছর আগে বীরভূমের ইলামবাজারে বিজেপি কর্মী শেখ রহিমের নৃশংস খুনের স্মৃতি নতুন করে উসকে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তৎকালীন এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতার দাবি, সেই সময়কার পুলিশ অফিসার পাণ্ডেকে তিনি আজও খুঁজে চলেছেন, যিনি উপস্থিত থেকেও রহিম শেখকে বাঁচাতে পারেননি।
বিজেপি কর্মীর উপর সেই ভয়াবহ আক্রমণ
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ৭ জুন বীরভূমের ইলামবাজার থানার ঘুড়িষা পঞ্চায়েতের কানুর গ্রামে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী শেখ রহিম। শমীক ভট্টাচার্যের বর্ণনা অনুযায়ী, শেখ রহিমকে যখন নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হচ্ছিল, তখন সেখানে একজন পুলিশ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, নিহতের পরিবারের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল, তা আজও বিস্মৃত হওয়া সম্ভব নয়। সেই সময়কার পুলিশি রিপোর্টে ওই অফিসার পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বা ‘ওভারপাওয়ার্ড’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা নিয়ে এক দশক পরেও প্রশ্ন তুলছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
ভোট পরবর্তী হিংসার ছায়া ও রাজনৈতিক বার্তা
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করলেও কেবল নিরাপত্তার অভাবে তাঁরা প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। অতীতে বিজেপি করার অপরাধে তাঁদের ওপর যে চরম অত্যাচার চালানো হয়েছে, শেখ রহিমের ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এই খুনের স্মৃতি স্মরণ করার পেছনে মূল কারণ হলো বর্তমানেও ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা এবং সংখ্যালঘু কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতেই তিনি সেই বিতর্কিত পুলিশ অফিসারের খোঁজ করছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।