মুসলিম ভোট ছাড়াই বাংলায় পরিবর্তন সম্ভব, তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ রাহুল সিনহার
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা ইস্যুতে সরব হলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। মঙ্গলবার কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল একটি দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। রাহুল সিনহা বলেন, এতদিন মনে করা হতো মুসলিম ভোট ছাড়া বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন অসম্ভব, কিন্তু সনাতনী সমাজের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
দুর্নীতি ও কাটমানি ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা দাবি করেন, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ—রাজ্যের সর্বস্তরে আজ অরাজকতা চলছে। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, এই দুর্নীতির শিকড় কালীঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের মাধ্যম অটো ও টোটো স্ট্যান্ডেও ‘কাটমানি’ রাজ চলছে বলে তিনি তোপ দাগেন। রাহুল সিনহার হুঁশিয়ারি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি শীঘ্রই প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ খুলে দেবে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই তোলাবাজি ও দুর্নীতির চক্র সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে।
অনুপ্রবেশ ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সাংসদ জানান, বহু বিজেপি কর্মীর ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। দলীয় কর্মীরা এলাকাছাড়া হলেও বিজেপি শান্তি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়নি। একইসঙ্গে রাজ্যে জনবিন্যাস পরিবর্তন ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর চেষ্টা চলছে। এই সময় তিনি পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক চাপে পুলিশ এতদিন নিরপেক্ষ কাজ করতে পারেনি দাবি করে তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিজেপি নেতৃত্বের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে সনাতনী ভোট ব্যাংককে গুরুত্ব দিয়ে রাহুল সিনহার এই বক্তব্য রাজ্যের মেরুকরণের রাজনীতিকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করেছে।