মুখ্যমন্ত্রীর পিএ খুনের তদন্তে কোমর বেঁধে নামল সিবিআই, ঘটনাস্থলে বিশেষ তদন্তকারী দল
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদে এবার পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নামল সিবিআই। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে মামলার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে পৌঁছান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সিবিআই-এর কলকাতা জোনের যুগ্ম নির্দেশকের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এদিন খুনের ঘটনাস্থলটি নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করে। মূলত অপরাধের নমুনা সংগ্রহ এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যেই এই প্রাথমিক তৎপরতা শুরু করেছে সংস্থাটি।
ঘটনার নেপথ্যে সুপরিকল্পিত ছক
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে অত্যন্ত পেশাদার ঢঙে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে দুই বাইক আরোহী দুষ্কৃতী এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং গুরুতর জমান অবস্থায় চালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজ্য পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও এই গ্রেফতারি ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ধৃতদের পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ, ট্রানজিট রিমান্ড ছাড়াই বেআইনিভাবে তাঁদের লখনউ ও অযোধ্যা থেকে কলকাতায় আনা হয়েছে। এই বিতর্কের মাঝেই আদালতের নির্দেশে তদন্তের ভার পায় সিবিআই।
ষড়যন্ত্রের শিকড় সন্ধানে গোয়েন্দারা
সিবিআই আধিকারিকরা এখন খতিয়ে দেখছেন এটি নিছকই সুপারি কিলারদের কাজ, নাকি এর পেছনে কোনও বৃহত্তর রাজনৈতিক চক্রান্ত কাজ করছে। ধৃতদের বয়ান এবং পুলিশের সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি সিবিআই কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে প্রমাণের সূত্র মেলাচ্ছেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির ওপর এমন ভয়াবহ আক্রমণ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা সীমান্তের বাইরেও বিস্তৃত থাকতে পারে, যার মূল কারিগরদের খুঁজে বের করাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।