রেশন দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়ে অ্যাকশন মুডে নতুন খাদ্যমন্ত্রী
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। মঙ্গলবার দপ্তরে প্রথমবার পা রেখেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রেশনে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদলে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি জানিয়েছেন, জনগণের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
সাত দিনের আল্টিমেটাম ও শুদ্ধিকরণ অভিযান
দায়িত্ব গ্রহণের পরেই দপ্তরের কাজের গতিবিধি পর্যালোচনা করতে এক সপ্তাহ সময় চেয়ে নিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে এই দপ্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি শিকড় গেড়েছে, যা উপড়ে ফেলা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “যারা দুর্নীতি করেছে, আগে তাদের ব্যবস্থা করি।” মে মাসে রেশন বণ্টনে কিছুটা সমস্যা থাকলেও জুন মাস থেকে সাধারণ মানুষ উন্নত মানের খাদ্যদ্রব্য পাবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া রেশন কার্ড এবং পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
পুরানো ফাইল ও গ্রেফতারির সম্ভাবনা
তৃণমূল জমানায় খাদ্য দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং রথীন ঘোষ, যাঁদের জেলা উত্তর ২৪ পরগনা থেকেই উঠে এসেছেন অশোক কীর্তনিয়া। তবে পূর্বসূরিদের পথে না হাঁটার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নিজেকে ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে দাবি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক সপ্তাহের সময় চাওয়ার নেপথ্যে দপ্তরের পুরনো ফাইল ঘেঁটে দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তির গ্রেফতারির বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি দপ্তরে বড়সড় রদবদলের আবহ তৈরি করেছেন।
রেশন দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে চলা ইডি-সিবিআই তদন্ত এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন খাদ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং দপ্তরের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে তিনি কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।