সুস্থ জীবনের হাতছানি, কলকাতায় আত্মসমর্পণ মাওবাদী নেতার
দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ছেড়ে অবশেষে শান্তির পথে পা বাড়ালেন দুর্ধর্ষ মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র। মঙ্গলবার কলকাতায় রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা এই নেতা বিগত কয়েক বছর ধরে বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাওবাদী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তবে কেবল আত্মসমর্পণ নয়, নিজের প্রাক্তন সহযোদ্ধাদের প্রতিও সমাজের মূল স্রোতে ফেরার বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শারীরিক অসুস্থতা ও আদর্শিক পরিবর্তন
মাধাই পাত্রের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা। দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকা এবং প্রতিকূল পরিবেশে লড়াইয়ের ফলে তাঁর শরীর ভেঙে পড়েছে। মাধাই জানান, মূলত অসুস্থতার কারণেই তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এই বিষয়ে তিনি তাঁদের ইনচার্জ মিহির বেসরার অনুমতিও গ্রহণ করেন। ইনচার্জের সবুজ সংকেত মেলার পরই তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। জীবনের বাকি সময়টুকু কাজ করে সাধারণ মানুষের মতো অতিবাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মাওবাদী দমনে সাফল্য ও আগামীর প্রভাব
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সমস্যা নির্মূল করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, মাধাইয়ের এই আত্মসমর্পণ সেই প্রক্রিয়ারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। মাধাইয়ের মতে, কেন্দ্রীয় বার্তার অনেক আগে থেকেই তিনি সুস্থ জীবনে ফেরার কথা ভাবছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপ জঙ্গলমহলসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর অন্যান্য সক্রিয় মাওবাদী সদস্যদের মনোবল কমাতে এবং তাঁদের আত্মসমর্পণে উৎসাহিত করতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
একই দিনে কলকাতা পুলিশের হাতে শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা নামের ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষিত এক মাওবাদী নেত্রীর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি রাজ্যে মাওবাদী নেটওয়ার্কের ওপর বড়সড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে পুলিশের কড়া নজরদারি এবং অন্যদিকে মাধাইয়ের মতো নেতাদের আত্মসমর্পণ— এই দ্বিমুখী চাপে মাওবাদী সংগঠনগুলো বর্তমানে অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। মাধাইয়ের আশা, তাঁর মতো বাকি কমরেডরাও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসবেন।