পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ! মোদীর বার্তার পর কী জানাল কেন্দ্র?
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লেও ভারতের ভয়ের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানোর পর জনমনে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জোগান দেশের হাতে রয়েছে।
জ্বালানি মজুতের বর্তমান চিত্র
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে বর্তমানে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি এলপিজি পরিবহণের জন্য ৪৫ দিনের ‘রোলিং স্টক’ বা রেলের ট্যাঙ্ক ওয়াগন ব্যবস্থা তৈরি রাখা হয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের বিশাল এই মজুত ভাণ্ডার আপাতত বড় কোনো সংকটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছে। মূলত বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠা-নামা মোকাবিলা করতেই এই কৌশলগত মজুত নিশ্চিত করেছে কেন্দ্র।
সতর্কতা ও সরকারি পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী মোদী রান্নায় তেলের ব্যবহার কমানো, সোনা কেনায় নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো পরামর্শ দিলেও কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারত এখনও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ৭০৩ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ ভারতকে বাড়তি সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে না দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনছে। মূলত পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই বিপুল ব্যয় বহন করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জাতীয় মিশন
দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল মিশন’ চালু করেছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রকে যুক্ত করা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখতে বিশেষ প্রচার শুরু হয়েছে। যদিও বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানির দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, ভারতে গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে দাম স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে করোনার সময়ের মতোই দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্র।