সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর বিস্ফোরক তরুণজ্যোতি, এবার কি তবে দেবরাজ চক্রবর্তীর পালা?
রাজ্যের পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর মন্ত্রীকে হেফাজতে নিতেই নতুন মাত্রা পেয়েছে এই তদন্ত। তবে সুজিতের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির একটি ভিডিও বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। তরুণজ্যোতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সুজিত বসুর পর এবার গ্রেফতারির তালিকায় রয়েছেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রভাবশালী নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী।
তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য ও রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি
তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তাঁর বার্তায় সাফ জানিয়েছেন, দক্ষিণ দমদম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিয়োগ দুর্নীতির শেকড় অনেক গভীরে। তাঁর দাবি, “একটি উইকেট পড়েছে, বাকিগুলোও পড়বে।” বিধায়ক সরাসরি দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে বলেন যে তাঁর সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। এই হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ কোন দিকে যেতে পারে, তা নিয়ে বিরোধী শিবির নিশ্চিত। শুধুমাত্র দক্ষিণ দমদম নয়, বরং রাজ্যের প্রতিটি পুরসভায় যেখানে নিয়োগের নামে কারচুপি হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কপালে ‘জেলের ভাত’ জুটবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
দুর্নীতির নেপথ্যে অয়ন শীল ও রেস্তোরাঁ যোগ
২০২৩ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীলের গ্রেফতারির পর থেকেই পুরসভাগুলোতে নিয়োগ সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি আধিকারিকরা পুরনিয়োগের বহু নথিপত্র উদ্ধার করেন। সুজিত বসুর ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় ছিল সল্টলেক সেক্টর ফাইভে তাঁর ছেলের মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁ। ইডির দাবি, কোনো পরিকাঠামো ছাড়াই সচল থাকা ওই রেস্তোরাঁর আড়ালে আসলে নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করা হতো। প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় গ্রেফতার করা হয় হেভিওয়েট এই নেতাকে।
এই গ্রেফতারি দুর্নীতি তদন্তে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। একদিকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ, অন্যদিকে সুজিত বসুর গ্রেফতারি প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়াল। রাজনৈতিক মহলের মতে, তরুণজ্যোতি তিওয়ারির এই আগাম ইঙ্গিত যদি সত্য হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে রাজ্যজুড়ে আরও প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার এই লড়াই শেষ চোরটি জেলে না যাওয়া পর্যন্ত থামবে না বলে বিরোধী শিবির তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।