বাংলায় মমতার শাসনের অবসান, বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল
পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদল সম্পন্ন হলো। বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর.এন. রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুঁয়ে অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২(বি) উপধারা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন রাজ্যপাল।
তৃণমূলের ভরাডুবি ও মমতার হার
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ব্যাপক উত্থান ঘটেছে বিজেপির। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে থমকে গেছে। খোদ নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক জটিলতা।
নির্বাচনী পরাজয় সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে প্রথাগত পদত্যাগপত্র জমা দিতে অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কারচুপির কারণে এই ফল হয়েছে। তিনি একে জনগণের পরাজয় হিসেবে মানতে নারাজ। এই সাংবিধানিক অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্যপাল স্বয়ং বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার আদেশ জারি করেন, যা ৭ মে থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন সরকারের পথে বাংলা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাজ্যপালের হাতে ছিল না। ফলে বর্তমানে রাজ্যপালই প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি তৃণমূলের এই পতনের প্রধান কারণ। অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মমতার পদত্যাগ না করাকে একটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে বিধানসভা ভেঙে যাওয়ায় এখন বাংলায় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।