শুভেন্দুর আপ্ত সহায়কের মৃত্যু: ‘টার্গেট করা হয়েছে ছেলেকে’, বিস্ফোরক দাবি মায়ের
রাজ্য রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্ত সহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথের রহস্যজনক মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এই প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী। চণ্ডীপুরের কুলটা গ্রামের এই ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ। পরিবারের বড় ছেলের এমন আকস্মিক প্রয়াণে বৃদ্ধা মা হাসিরানি রথ শোকে পাথর হয়ে গেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ও শোকাতুর পরিবার
চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের অন্যতম নেপথ্য কারিগর। তাঁর মা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত সেনানী হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। শোকাতুর হাসিরানি দেবী কোনো ঘাতকের ফাঁসি না চাইলেও, দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং উপযুক্ত বিচার প্রার্থনা করেছেন। এলাকায় অত্যন্ত সজ্জন ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর প্রতিবেশী ও পরিজনরা।
তদন্তে প্রশাসন ও নেপথ্য কারণের সন্ধান
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে চন্দ্রনাথের পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা ও সাম্প্রতিক গতিবিধির ওপর নজর দিচ্ছে। বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মী ইদানীং কাজের সুবিধার্থে মধ্যমগ্রামে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, কারণ চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করার পাশাপাশি পুলিশ খতিয়ে দেখছে কোনো পুরনো বিবাদ বা পরিকল্পিত শত্রুতা এই ঘটনার মূলে রয়েছে কি না।
এক ঝলকে
- শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক ও প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন।
- চণ্ডীপুরের কুলটা গ্রামে শোকের ছায়া, ছেলের খুনিদের কঠোর শাস্তি দাবি মায়ের।
- নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় চন্দ্রনাথ টার্গেট ছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
- হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে পুলিশ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সব দিক।